হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, গত রাতে পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার হাসনাবাদ এলাকার আমরুলগাছা চকপাটলিতে অনুষ্ঠিত এক ধর্মীয় মজলিসে বিশিষ্ট আলেম মাওলানা আসগর আলী সাহেব তাঁর বক্তৃতায় ইসলামের অভ্যন্তরীণ শত্রুদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেছেন।
মজলিসের শুরুতেই মাওলানা আসগর আলী পবিত্র কুরআন মাজীদের সুরা নামল-এর ৬৪ নম্বর আয়াত "কুল হাতু বুরহানাকুম ইন কুনতুম সাদিকিন" (অর্থ: 'বলো, তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর') উদ্ধৃত করে বলেন, ইসলামের ইতিহাসের সর্বোচ্চ ক্ষতি যারা ঘটিয়েছে, তারা হচ্ছে মুনাফিকরা (দ্বিমুখী ও কপট লোকেরা)।
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও বলেন, প্রকাশ্য শত্রুরা যতই শক্তি প্রয়োগ করুক না কেন, তাদের চেয়ে বেশি ভয়ংকর হল গোপন শত্রু। মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে ইসলামের অনুসারী সেজেও অভ্যন্তরে ষড়যন্ত্র করে, গোপন বিভেদ সৃষ্টি করে এবং সমাজে অনৈক্য বাড়ায়। এই আয়াতের মাধ্যমেই আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের মিথ্যা দাবির মুখোশ উন্মোচনের নির্দেশ দিয়েছেন-তাদের সত্যতার প্রমাণ দাবি করা হয়েছে, যা তারা কখনো পেশ করতে পারে না।
মাওলানা আসগর আলী সাহেব তাঁর ভাষণে উপস্থিত মুসল্লিদের প্রতি আহ্বান জানান যে, তারা যেন শুধুমাত্র বহিরাগত শত্রুর চিন্তায় না ভোগেন, বরং নিজেদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা কপটতা ও মুনাফিকি থেকে বেঁচে থাকার চেষ্টা করেন।
তিনি সমাজে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং বলেন, প্রকৃত সফলতা তখনই আসবে যখন প্রতিটি মুসলিম অন্তর থেকে খাঁটি হবে এবং নিজেদের মধ্যে কোনো প্রকার প্রতারণা থাকবে না।
প্রসঙ্গক্রমে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর যুগেও মুনাফিকরা ছিল সবচেয়ে বড় বাধা, কারণ তারা প্রকাশ্যে শত্রুতার বদলে গোপন ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে ইসলামের অন্তর্নিহিত শক্তিকে দুর্বল করার চেষ্টা করত।
উপস্থিত শ্রোতারা তাঁর বক্তব্য গভীর মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং শেষে দোয়া ও মুনাজাতের মাধ্যমে মজলিসের সমাপ্তি ঘটে। স্থানীয় মুসলিম সমাজ মাওলানা আসগর আলীর এই যুগোপযোগী বার্তাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন।
আপনার কমেন্ট